গণিত যেখানে শেষ রাজনীতি সেখান থেকে শুরু।
সহজ ভাবে বললে ,গনিতে অংক কষে উত্তর (Answer) মেলাতে হয় অথবা বিষয়ের যৌক্তিক বৈধতা প্রমান দ্বার সিদ্ধান্তে উপণীত হয়;পক্ষান্তরে রাজনীতিতে উত্তর থেকে অংক কষতে হয় অর্থাৎ সিদ্ধান্ত/বা ফলাফল পূর্বে অতঃপর গৃহিত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।যিনি অংকের উত্তর পূর্বেই দেখতে পান তিনি অতিমানবীয় গুনাবলীর অধিকারী কোন মানুষ যে একেবারেই নয়, তা নয়;কিন্তু তার চেয়ে বেশী যে বিষয়টি এসে দাঁড়ায় তা হলো বিষয়ের প্রতি তাঁর প্রেম।আর এই প্রেম যখন হয় দেশের সাথে , তখন তাকে বলে দেশপ্রেমিক ।অনেক অনেক কঠিন এই খেতাব। দেশ বরেণ্য এইসব মহান নেতাদের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা জাতীর ইতিহাসকে জ্বলন্ত নক্ষত্র দিয়ে অলংকৃত করে রাখে।এরা পরাজিত হতে আসে না!আসে জয় করতে ও জয়ী করাতে।এরা জাতীর পথপ্রদর্শক।জাতীর স্বকীয়তার বৈশিষ্ট যে অহং(EGO) তা হলো জাতীয়তাবোধ বা দেশাত্মবোধ,আত্মসত্বার উপলদ্ধিবোধ জাতীকে এগিয়ে নিয়ে যায় কাঙ্খিত লক্ষে।জাতীর সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখতে এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে এদের নির্দেশনা বা নের্তৃত্ব সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া একটি দেশ ও জাতীর উন্নয়নের সূত্র বা ফরমূলা হিসাবে সমাদৃত হয়। এরা দেশ গড়ার কারিগর।
আমরা যারা ৬৯ থেকে এ পর্যন্ত জন্মগ্রহনকারী প্রজন্ম তাদের কাছে স্বাধীনতার স্মুতি বলতে কিছূই নেই। সচেতনার তাগিদে রাজনৈতিক বিশ্লেষন বা মূল্যায়নে গাণিতীক বিশ্লেষনের উপরের হিসাব অনুযায়ী পিছনে তাকিয়ে দেখতে হবে যে, আমাদের দেশে কি পূর্ব থেকে উত্তর জানা কোন প্রজ্ঞাবান ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ ছিলেন কি না।
৬৯ থেকে ৯০ পর্যন্ত সময়কাল এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসের খুব উল্লেখযোগ্য একটা সময়কাল। কেননা এ সময়কালেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেরুকরন হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায় যে, জাতীর মহা ক্রন্তিলগ্নে একটি নক্ষত্রের দুই বার আবির্ভাব ঘটে।প্রথমবার তাঁর আবির্ভাব ঘটে ৭০ এর শুরুতে । ৭ মার্চ ১৯৭১ সাল,যুদ্ধাংদেহী একটি জাতী স্বাধীনতার জন্য যখন প্রস্তুত শুধু নের্রৃত্বের ঘোষনার অপেক্ষা মাত্র। ঠিক তখন শেখ মুজিবর রহমান ইউ ডি আই(Unilateral Declaration of Independence) ঘোষনা না করে,এবারে সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম………….ইত্যাদি ইত্যাদি বলে স্বায়ত্বশাসনের ৬ দফা পাঠ করে তড়িঘড়ি করে বক্তৃতা শেষ করে জাতীকে হতাশ করে মঞ্চ ত্যাগ করেন। এমনকি তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই রেসকোর্স ময়দান ত্যাগ করেন। আর এই স্বাধীনতা ঘোষনা না করায় জাতীকে খূব চড়া মূল্য দিতে হয় যখন ২৫ মার্চ রাত্রে পাক বাহিনী ঘুমন্ত জাতীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে,শুরু হয় দেশের বুদ্ধিজীবি সহ সাধারণ মানুষের রক্ত নিয়ে হলি খেলায় মেতে ওঠে পাক সেনারা ।সমগ্র জাতী নের্তৃত্বশূণ্য হয়ে পড়ে কেননা শেখ মুজিবর রহমান তখন সমগ্র দেশ আর জাতীকে বন্দুকের নলের মাথায় রেখে পাকিস্থানের কাছে আত্মসমর্পন করে স্বেচ্ছায় কারাবরন করেন,আর তার সহযোগীরা দেশ ছেড়ে ভারত সহ অন্যান্য দেশে পালিয়ে যান। নের্তৃত্বহীন ঘুমন্ত এক জাতী পাক হানাদারের আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ে, দিগ্বীদিক জ্ঞানশূন্য আর্তচিৎকার আর আহাজারী ও জীবন বাঁচানোর জন্য ছুটাছূটি করা ছাড়া আর কিছূই করার ছিল না! জাতী বুঝতেই পারছিল না তাদের কি করণীয়!ঠিক সেসময় বাংলাদেশের আকাশে উদিত হয় সেই নক্ষত্র!চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রথেকে থেকে তিনি ঘোষনা করেন”আমি মেজর জিয়া বলছি……….” দৈব বানীর মত স্বাধীনতার এই মহান দূঃসাহসী ঘোষনা সমগ্র বিভ্রান্ত জাতীকে থমকে দেয়।এক অদ্ভুত প্রেরনায় জাতী ঘুরে দাঁড়ায় প্রতিরোধ আর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। জাতী পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পায়। সমগ্র জাতী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। মূহুর্তের মধ্যে দেশের চিত্র উল্টে গিয়ে জাতী পরিণত হয় এক অপরাজেয় মুক্তিবাহিনীতে।শুরু হয় পাক বাহিনীর উপর পাল্টা আক্রমন। লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জাতী লাভ করে কাঙ্খিত স্বাধীনতা।
দেশের স্বাধীনতার নের্তৃত্ব দান কারী এই নক্ষত্র স্বাধীনতা অর্জন শেষে বাহিনী তে নিজ কর্তব্যের প্রতি মনোনিবেশ করেন।
শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের আর এক অধ্যায়। বার্মা র ক্ষমতা গ্রহনের পর কোন এক সময় জেনারেল NE WIN
একসময় বলেছিলেন “The ruling of an Underdeveloped Country was a much more difficult task than fighting a War”.
Oxford University Press থেকে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের চিত্র এভাবেই প্রকাশিত হয় “The Bengalis fought valiantly and won the liberation war in 1971.Now they are faced with a great challenge in building up a viable economy and stable social and political order. Soon after liberation,Prime Minister Sheikf Mujibur Rahman (Mujib) asked the people to wait for Three Years and promised that economic and political conditions would improve significantly by that time. But the end of the third year of independence (1974) ,thousands of Bengalis had died of starvation and there was an increasing polarization of political forces between the centrist Awami League government and the radical revolutionaries, threatening to engulf the country in a prolonged period of social disorder and political insatiability.In the first two years after independence,war-raveged Bangladesh was able to avoid a major economic crisis and large scale Famine mainly because of the massive relief operation carried on by the United Nations Relief Organization in Bangladesh (UNROB) and other international organizations.With the winding up of UNROB operations on December 31,1973,the Bangladesh economy began to show increasing signs of crisis.
“ The domestic economic policy pursued by the Awami League government aggravated the economic crisis in Bangladesh.Beause of compulsions emanating from the extreme radicalization of the political atmosphere”
“Bangladesh received a total of 1373 million dollar as granta and credits from friendly countries during the first Two Years after liberation” (Bangladesh Observer ,Dacca,march 26,1974)
A series corruption, economic problems and domestic disorder led to the proclamation of a National Emergency in December 1974 and the
adoption of the fourth amendment to the Constitution enabling Mujibur Rahman to become the President, dissolve the Parliament and replace the AL with a new party, the Bangladesh Peasants and Workers League (BAKSAL).(source-www.reference.com)
Sheikh Mujibor Rahman banned all other parties. It was the worst year for fundamental freedoms,including freedom of expression.The
newspapers suffered a major blow when most of them came under fire under the Emergency Regulations in 1974. (source-www.reference.com)
তাহলে বোঝা যায় যে,স্বাধীন বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ পরবর্তীতে বাকশাল, রজণীতিতে উত্তর/ফলাফল পূর্ব থেকে দেখতে পায়নি।ফলাফল দেখার দূরদৃষ্টি তাদের মধ্যে ছিল না।ফলে রাজনৈতিক প্রজ্ঞাহীন এই দল দেশকে অন্ধকারের দিকে ক্রমেই নিয়েই যাচ্ছিল।জাতীর দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল স্বাধীনতার পূর্বের আওয়ামীলীগ আর স্বাধীনতার পরের আওয়ামীলীগ কে। জাতী ভাবতে লাগলো এ কেমন স্বাধীনতা তারা অর্জন করেছে!সমগ্র দেশ ও জাতী পুনরায় হতাশায় নিমজ্জিত হল।অশিক্ষিত,অর্ধ শিক্ষিত,দরিদ্র এই জাতীর ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব কেউ কাঁধে তুলে নেয়নি!দেশের কপালে অঙ্কিত হলো একটি খেতাব”তলা বিহীন ঝুড়ি”(A bottomless basket Commented by Henry Kissinger )।কি হতভাগা এ জাতী!
সঙ্গত কারণেই একটা প্রশ্ন এসে যায়,তা হলো,শেখ মুজিবর রহমানের কথায় এ দেশের মানুষ কি করেনি? সাড়ে সাত কোটি বাংলাদেশী যার কথায় উঠেছে আর বসেছে, তাঁর পক্ষে দেশের উন্নয়নে আর বাঁধা কোথায়? আসলে গণিতের উত্তর তাঁর পূর্ব থেকে জানা ছিল না!ছিল না উন্নয়ন আর আত্মনির্ভরশীলতার কোন সূত্র।তাই তিনি পারেননি দেশকে শুরু থেকে উন্নয়নের পথে চালিত করতে।অবশ্য দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ না হলে ফলাফল দেখা যায় না!
মুরব্বীরা বলেন যে, স্বাধীনতার পর ধর্মনেরপেক্ষতার আঁড়ালে সমাজে ধর্মহীন বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আচার স্থান করে নেয়।মুসলমানের সাথে মুসলমানের দেথা হলে ছালাম দেওয়ার পরিবর্তে ন্যাৎসী বাহিনীর মত শপথের স্টাইলে ডান হাত তুলে বলা হতো “জয় বাংলা”, দূর্ভিক্ষপীড়ত দরিদ্র মানুষকে সেবা দেওয়ার নাম করে তাদের ঘরে ঘুকে বিভিন্ন বিধর্মী সাহায্য সংস্থা মুসলমানদের কে ধর্মান্তরিত করার কাজ চালাতে থাকে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ্ মুসলিম হল থেকে “মুসলিম” শব্দটি মুছে গেল!ধর্ম খাদ্য হীন দূর্ভিক্ষ পীড়িত একটা দিশেহারা জাতী অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছিল।জাতীর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন আবশ্যস্ভাবী হয়ে পড়লো।যেহেতু স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন। তাই জাতীর সামনে আরেকটি যুদ্ধ অপেক্ষা করতে লাগলো। গভীর সমুদ্রে সামুদ্রিক ঝড়ে আক্রান্ত জাহাজের মত নবপ্রসূত একটি স্বাধীন দেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল তাতে স্বাধীনতার যে কি স্বাধ তা জাতী হাঁড়ে হাঁড়ে অনুভব করেছিল। কাক কাকের মাংস খেতে লাগলো ।অর্ধমৃত মানব দেহের উপর চিল শুকুন খুচেঁ খুচেঁ মানুষকে খেয়েছে। হাত দিয়ে পাখি তাড়াবার শক্তি মানুষের অবশিষ্ট ছিল না।জাতী এর থেকে পরিত্রাণের কোন পথ পাচ্ছিল না!শুধু দগ্ধ হচ্ছিল!দেশে দূর্ভিক্ষ,মহামারি,লুটপাটে অগনিত মানুষ প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছিল!নৈরাজ্য ,দূণিতী আর দঃশাসন এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায়,জাতীর পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখন বিচারের ভার সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ নিজ হাতে তুলে নেন। যপনিকাপাত ঘটে এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের।
এখন? গণিতের উত্তর জানা রাজনীতিবিদ কোথায়?কে হাতে তুলে নেবে এই দরিদ্র জাতীর ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব কে কাঁধে তুলে নেবে!প্রয়োজন হয়ে পড়ে স্বাধীনতা রক্ষা করার যুদ্ধ। অর্থনৈতিক যুদ্ধ,দেশ হড়ার যুদ্ধ,জাতীকে আত্মনির্ভরশীল করার যুদ্ধ।জাতী আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো ২৬ মার্চ ১৯৭১ এ উদীত হওয়া সেই নক্ষত্রের পুনরাবির্ভাবের।
৭ নভেম্বর ১৯৭৫ ,দেশের চরম ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের আকাশে হারিয়ে যাওয়া সেই নক্ষত্র আবার উদয় হয়।পৃথিবীর ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে,আত্মসত্বার শক্তিতে বলিয়ান ও জাতীর পথ নির্দেশনার ফরমূলা প্রনয়নকারী এই সব মহান নেতা শত বছরে জন্মগ্রহন করে আর যে জাতীর মাঝে তাঁরা জন্ম নেয় সে জাতী হয় সমৃদ্ধ ও গর্বিত। সাড়ে আট কোটি মানুষ যাদের ৯০ ভাগ মুসলমান তাদের বাঁচাতে এ মাটিতেই জন্মেছিল স্বাধীনতার মহান ঘোষক,স্বাধীনতা যুদ্ধে নের্তৃত্ব দান কারী মহান Freedom Fighter ,দেশ হড়ার কারিগর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
এখন দেখা যাক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কি অংকের উত্তর বা ফলাফল পূর্ব থেকে জানতেন?তার দু একটি প্রমান খুব সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়, যেমন:-
১। আমরা জানি ফারাক্কা বাঁধ ১৯৭১ সালে তৈরি করেছে ভারত।আজ ৪০ বছর পর এর ভয়াল অভিশাপ নদীমাতৃক বাংলাদেশকে যে একসময় মরুভুমীতে পরিণত করবে তা শহীদ জিয়ার পূর্বে আরও যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা কি দেখতে পেয়েছিলেন?অবশ্যই পারেননি।
জাতীর প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে এ ফলাফল দেখা যায়,অন্যথায় নয়।শহীদ জিয়া তা বুঝতে পেরেই শুরু করেন খাল খনন কর্মসূচী। কেননা তিনি জানতেন কৃষিনির্ভর,প্রযুক্তিহীন,Under developed একটি জাতীর বেঁচে থাকতে হলে তাকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে।আর পানি/সেচ কৃষির প্রাণ।উল্লেখ্য যে,শহীদ জিয়ার আমলেই এদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।কিন্তু যারা উত্তর থেকে অংক কষতে জানেন তাদের কাছে এ কাজটি মোটেও কঠিন নয়।শহীদ জিয়া তাদেরই একজন।Veni-bici-vidi এলাম ,দেখলাম,জয়করলাম এর মতই নবপ্রসূত,দূর্ভিক্ষপীড়িত,দরিদ্র,অশিক্ষিত,অর্ধশিক্ষিত জনগোষ্টির একটি নিমগ্ন দিশেহারা জাতী ও দেশ কে সার্বভৌমত্ব নিয়ে উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার মত কঠিন কাজগুলো শহীদ জিয়া খুব সহজেই সম্পন্ন করেছেন। পবিত্র নগরী মক্কার মরুভূমীতে নিমগাছ লাগানোর মত উন্নয়নের ফরমূলাও তিনি রেখে গেছেন,য়া তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচীর মধ্যেই নিহিত।
২। শহীদ জিয়া বিচক্ষন ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন বিধায় বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন যে,চতুর্দিক থেকে ঘেরা বিজাতীয় সংস্কৃতির ধারক ও বাহক প্রতিবেশী ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার আঁড়ালে ধর্মহীন নির্লজ্জ বিজাতীয় সংস্কৃতি ৯০ ভাগ মুসলমানের এই ক্ষুদ্র দেশের ইসলামী মূল্যবোধকে ধ্বংস করে জাতীর শিরায় শিরায় প্রবেষ করতে পারে।আর সেজণ্যই তিনি সংবিধানে সংযুক্ত করেছেন “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম”. রাষ্ট্রিয় ৪(চার) মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে স্থান দেন “সর্বশক্তিমান আল্লাহ্তা’লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস”।একটি নব্য স্বাধীন মুসলিম দেশ কে স্বকীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে আত্মপরিচয়ে পরিচিত হতে হলে যে কাজটি করা দরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই কাজটি করতে ভূল করেননি।কি অদ্ভুত দেশপ্রেম থাকলে একজন মহান ও সফল রাষ্ট্রনায়কের দৃষ্টি এতদূর পর্যন্ত যেতে পারে! এ বিবেচনায় তিনি বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের একজন রক্ষক হিসাবে পরিগণিত।সহজ করে বললে বলতে হয় যে,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশ নামক মুসলিম দেশের প্রতিষ্ঠাতা।
উপরের যৎসামান্য পর্যালোচনা থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে যিনি রাজণীতিতে উত্তর থেকে অংক কষতেন। আগেই বলেছি,এরা আসে জয়ী হতে ,আর জয়ী করাতে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া র ৬৮ হাজার গ্রাম যার পদচারনায় মূখরিত ছিল। নিজ হাতে জাতীর উন্নয়নের প্রেরণা যুগিয়েছেন এই নেতা। জাতীকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সীমাহীন ব্যাকুলতা তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াতো বাংলাদেশের প্রতিটি কোনায় কোনায়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন কথায় কথায় ব্যাঙ্গাতক সূরে শহীদ জিয়ার “ভাঙ্গা ছুটকেছের” কথা তোলে তখন গর্বে আমার বুক ভোরে ওঠে। এমন একজন নেতা সব জাতীর ভাগ্যে জোটে না! একটি স্বাধীন জাতীর বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি যে অহং(Ego)যে দেশাত্মবোধ,জাতীয়তাবোধ তা বাংলাদেশের মানুষের মাঝে জাগিয়ে তোলার অকুনঠ ব্যাকুলতা শহীদ জিয়া কে যেভাবে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
মৃত্যুকে তিনি কখনোই পরোয়া করেনি।তাঁর ভাষায়-
“মৃত্যুক কেন আপনারা এত বড়করে দেখছেন ,
আমিতো কতবার মৃত্যুর মুখোমুখি হলাম ,
যখন জন্মেছি মৃত্যুতো আসবেই ,
তার জন্যে ভয় কিসের?
আমাদের রাজনীতি এতদিন কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল?
গ্রামের মাটির কোন গন্ধ কি তার মধ্যে ছিল?”
উক্তিটি দেশ গড়ার কারিগর , মহান স্বাধীনতার ঘোষক,একজন দেশপ্রেমিক, একজন দেশ বরেণ্য নেতা ,ক্রান্তিলগ্নে বাংলার আকাশে উদীত হওয়া এক সহাজাগতিক নক্ষত্র , শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের।প্রায় চল্লিশ বছর বয়সের এই দেশে এত বড় শোকের জানাযা আর কারও ভাগ্যে এখনো পর্যন্ত জো্টেনি! A Great Patriotic Leader is going ; leaving a proud nation behind!
কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর অসাধারন নের্তৃত্বের গুনাবলী,তাঁর প্রজ্ঞা,মেধা আর অস্বাভাবিক জনপ্রিয়তা কূচক্রীদের টার্গেটে পরিণত হয়।আমরা আমাদের নেতাকে বাঁচাতে পারিনি! কি হতভাগা জাতী আমরা! যিনি আমাদের ভাগ্য উন্নয়নে রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল। সেই নেতার নিরাপত্তা আমরা দিতে পারিনি।
একটি ছোট্ট ঘটনা বলি,সম্ভবতঃ১৯৭৯ সাল|খুলনা শহরে ব্যাপক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে,প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আসছে।মাইকের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের আগমন বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।অমি তখন ক্লাশ ফোর এর ছাত্র।সকাল ১১ টার দিকে শহরের সমস্থ মানুষ সার্কিট হাউস এর দিকে ছূটছে। সকাল ১১ টার দিকে শহরের সনস্থ মানুষ সার্কিট হাউস ময়দানের দিকে ছুটছে।মহান এই জনপ্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য । আমিও স্কুল বাদদিয়ে ছূটলাম সার্কিট হাউসের দিকে। যেতে যেতেই দেখছি প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার জোরালো শব্দে উড়ে এসে সার্কিট হাউসের দিকে অবতারনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।মানুষের ছোটার গতি বেড়ে গেল। আমিও জোরে দৌড়াতে লাগলাম,এক সময় পৌঁছে গেলাম,তখনো প্রেসিডেন্ট বক্তৃতা শুরু করেন নি।অন্য নেতারা বক্তৃতা দিচ্ছে। আমি ছো্ট মানুষ হওয়ায় মানুষের পায়ের ফাঁক দিয়ে অনেক ধাক্কাধাক্কি করে এগোতে এগোতে একেবারে প্রেসিডেন্টের মঞ্চের সিড়িঁর কাছে পৌঁছে গেলাম।সার্কিট হাউস থেকে মঞ্চে যাওয়ার রাস্তাটুকু পুলিশ অনেক কষ্টে নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করছে কেননা এপথেই প্রেসিডেন্ট মঞ্চ থেকে নামবেন।কানায় কানায় পূর্ণ সার্কিট হাউস ময়দান। সবার ইচ্ছা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের রুপকার প্রেসিডেন্ট জিয়া কে এক নজর কাছ থেকে দেখা । যতটুকু মনে পড়ে প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষনে জাতীকে দেশ গড়ার কাজে অংশ গ্রহন করতে,বলছিলেন উন্নয়নের কথা যেমন – রাস্তার দুধারে রেল লাইনের দুধারে ফলের গাছ লাগাতে হবে,মা বোনরা ঘরে হাঁস মুরগী গরু ছাগল লালন পালন করবেন,দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে,আমাদের কে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে ……আরও অনেক কিছু। প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ ভাষন শেষ হলে যখন তিনি মঞ্চ থেকে নামবেন তখন জনগনের চাপ আরও বেড়ে গেল উদ্দেশ্য একটাই প্রেসিডেন্টের সাথে একবার হাত মেলানো। সবাইকে দেখে আমিও হাত বাড়ালাম উন্নয়নের এই কারিগরের হাতে হাত মেলানোর জন্য অথচ আমি জনগনের ধাক্কায় নিজেই দাঁড়াতে পারছিলাম না।অনেক কষ্টে দাঁড়িয়ে আছি।প্রেসিডেন্ট মঞ্চ থেকে নামছেন হাত মেলাতে মেলাতে,যখন তিনি আমার সামনে আসলেন তখন আমি ভাবছি প্রেসিডেন্টতো আমাকে দেখতেও পাবে না আর আমার হাতও মেলানো হবে না!কেননা আমি অনেক ছোট এক বালক।আর আমার পাশে অনেক বড় বড় লোক! হটাৎ প্রেসিডেন্ট আমার দিকে হাত বাড়ালেন আমার সাথে হাত মেলানের জন্য ,আমি হতবাক!কিছূ বুঝে উঠতে পারছিলাম না আমার কি করণীয়,আমি দুহাতে প্রেসিডেন্টের দুহাত জড়িয়ে ধরলাম!প্রেসিডেন্ট আমার হাতে হালকা করে একটা চাপ দিয়ে একটু মুচকি হাসি দিয়ে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে গেলেন! গনজোয়ারে কিছূক্ষনের মধ্যেই তিনি আমার দৃষ্টির বাইরে চলে গেলেন। কিছুক্ষন পর জোরালো শব্দে প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার আকাশে উড়াল দিল।আমি হেঁটে হেঁটে বাড়ী ফিরছি আর প্রেসিডেন্ট হাত মেলানোর আগে যে দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন সেই চেহারাটা আমার চোখে ভাসছে।প্রেসিডেন্টের চোঁখ,হাসি আমাকে আন্দোলিত করছে।আমার মধ্যে একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে। নিজেকে অনেক বড় মনে হচ্ছে,বার বার নিজের হাতের দিকে তাকাচ্ছি মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্টের হাতের ঘাম তখনো আমার হাতে লেগে আছে।বার বার ভাবছি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে হাত মিলিয়েছি!সেই হস্তস্পর্শের অনুভূতিটা আমি আজও অনুভব করি,প্রেসিডেন্ট আমার হাতে যে হালকা চাপ দিয়েছিল-সেই চাপের মধ্যে ছিল একটা প্রেরণা, দেশ গড়ার প্রেরণা,জাতীয়তাবোধের প্রেরণা। ধন্য আমার হাত । জাতীর ইতিহাসের এই মহান অবিনশ্বর নেতা যার হাতে এ দেশের লক্ষ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছিল।আমিও যেন এই মহান নেতার নির্দেশিত আদর্শ বাস্তবায়নের একজন সৈনিক হয়ে নিজেকে স্বার্থক করতে পারি। নামফলক মুছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে লক্ষ কোটি বাংলাদেশীর হ্রদয় থেকে কোনদিন মুছে ফেলা যাবে না।
প্রজ্ঞাময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন যথার্থ মুসলমান এবং একজন মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের উপর আল্লাহ্Õতালা যে গুরু দায়িত্ব অর্পন করে থাকেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াইর রহমান সে দায়িত্বটিই পালন করেছেন।পৃথিবীর ইতিহাসে যে কজন দেশপ্রেমিক মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতিষ্টাতা প্রধান আছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিঃসন্দেহে তাদের একজন হিসাবেই কাল হাসরের ময়দানে দাখিল হবেন।মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে এই আমার কামনা।
হাবিব
শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের একজন কর্মী
habib829@hotmail.com