ডিজিটাল বাংলাদেশ ।কাঁনা ছেলের নাম পদ্মলোচন ।
Posted by: Habib Rahman
on May 31, 2010
ডিজিটাল বাংলাদেশ ।কাঁনা ছেলের নাম পদ্মলোচন ।
ছেলের নামের বাহার সে দেখতে পাক আর না পাক। বিদ্যুৎ গ্যাস না থাকলেও বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের চাপে ভারাক্রান্ত।যে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট কি জিনিস তা এখনো সঠিকভাবে জানে না,৭৫ শতাংশ মানুষের ই-মেইল এ্যাডরেসের সাথে কোন যোগায়োগ নেই,সে দেশটির নাম দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ!সূর্যাস্তের সাথে সাথে যে দেশ আঁধারে ছেয়ে যায়,ছাত্র ছাত্রীরা কেরোসিনের মৃদূ আলোয় লেখাপড়া করে।যে দেশের মানুষ এখনো বিশুদ্ধ খাবার পানি পায় না!এখনো যেখানে গ্যাসের অভাবে চূলায় হাঁড়ি চড়ে না, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক লাগামহীন অবস্থার কারনে মানুষ যেখানে তিন বেলা পেট ভরে খেতে পারে না,অথচ সেদিন এক টক শো তে BAL এর এক উপদেষ্টা প্রফেসর এ কে আজাদ চৌধরী বললেন যে, BNP সরকারের আমলে চালের সর্বনিম্ন দর ছিল ২৬ টাকা বর্তমানেও সর্বনিম্ন দর ২৫ টাকা,তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও ভাবা দরকার।অজাদ সাহেব কি বোঝাতে চায়? সে কি মনে করে?এদেশের মানুষ কি ভাত খায় না গাঁজা খায়? BNP অমলে আমি চাল কিনেছি, যেটা ভাল পাইজাম সেটা ২৪-২৬ টাকা ছিল।ফকরুদ্দিনের আমলে খেয়েছি ৩৮-৪০ টাকায়।বর্তমানে খাচ্ছি ৩৪-৩৬ টাকায়।আর আন্তর্জাতিক বাজারের কথা যখন তুললেন তখন বলতে হয় যে, BNP সরকারও চিৎ কার করে বলেছিল যে, আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে যার সামান্য প্রভাব বাজারে পড়তেই পারে!কিন্তু সেদিন আপনারা জাতীকে ভ্রান্তপথ দেখিয়েছিলেন,বলেছিলেন হাওয়া ভবনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে জনগনের পয়সা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে BNP!আজাদ সাহেব এখন আপনাদের কথাও আর কেউ শুনবে না।সারাদেশে এখন সর্বনিম্ন রিক্সাভাড়া ১০ টাকা।BNP আমলে সর্বনিম্ন রিক্সাভাড়া ছিল ৩/৪ টাকা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, আমরা ক্ষমতায় আসার পর চালের দাম ছিল ১৮ টাকা কিন্তু কৃষকের লোকসানের কথা ভেবে চালের দাম বড়ানো হয়েছে!প্রধানমন্ত্রীর কথায় আর মানুষ কান দেয় না! সবাই জানে যে,মহিলার মিথ্য কথা বলায় জুড়ি নেই। জনগন বলে দেবে ২০০১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সময়কালে কার আমলে চালের দাম কম ছিল।আইন প্রতিমন্ত্রী যেমন পাগল তেমনি প্রধানমন্ত্রীও একজন মিথ্যাবাদী।
দিন বদলের জয়গান গাওয়া So Called বুদ্ধিজীবিদের কে এখন আর টেলিভিসনে দেখা যায় না।অথচ ২০০৫-০৬ এ টিভি খুললেই এদের চেহারা দেখা যেত।মনে হতো এদের কোন ঘর বাড়ী নেই,সারাক্ষন টিভি স্টুডিও গুলোতেই ছিল তাদের পদচারনা।Season changed ,People Changed!ক্ষমতা গ্রহনের পর সে সব বুদ্ধিজীবিরা এখন নিজেদের পেট ভরতে ব্যস্ত।ব্যারিস্টার মওদুদ তো বলেই ফেললেন যে, আওয়ামী লীগ এখন টেন্ডারলীগ।
যা বলছিলাম – সামান্য বৃষ্টিতে যেখানে সমগ্র রাস্তা ঘাট ম্যানহোলে পরিনত হয়! নাগরিক জীবন যেখানে বয়লার মুরগীর মত।আর যানবাহন,হোক সে শহর কিংবা গ্রাম,হোক অফিস যাওয়া কিংবা ঘরে ফেরা সে তো এক অমানবিক বাহন,রিতিমত যুদ্ধ করার সমান!নেই পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট,নেই পর্যাপ্ত যানবাহন,অথচ অধীক জনগন!সবচেয়ে মজা লেগেছিল বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর পরই ভারতে অবস্থানরত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেছিল যে,” এখন দেশে ফিরবো না তা কখন ফিরবো ?” ব্যাপারটা এমন যে, দেশে এমন এক সরকার এসেছে য়েখানে ইসলাম বিরোধী সকল কাজ যেন জায়েজ।
বিষয়টি ঠিক্ই, যে সরকার বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম সহ্য করতে পারে না,তাদের ক্ষমতা গ্রহনের পর তসলিমা নাসরিনরা তো এমন কথা বলবেই!
গত ২৩/০৫/২০১০এ গাজীপুরের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর মূখে ইনশাল্লাহ্ শুনে একটু অবাকই হলাম! যারা বক্তৃতার শুরু আর শেষে আল্লাহর নাম নেয় না, বক্তৃতার মাঝখানে ইনশাল্লাহ্ শুনতে একটু অবাক হওয়াটাই স্বাভাবীক।দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার এই অংশটুকু প্রধানমন্ত্রী নকল করেছেন তাতে সন্দেহ নেই।দেশপ্রেম বর্জিত ক্ষমতাসীন দলের হালচাল এমনই হয়।
গত পরশু শনিবার সন্ধায় হটাৎ দেখি ফেইস বুক বন্ধ! কি আশ্চর্য? অবাধ তথ্য প্র্রবাহের এই যুগে,প্রযুক্তির ব্যবহার কি বাংলাদেশ বন্ধ করে দিতে চায়?প্রযুক্তি নির্ভর সামাজিক যোগাযোগর একটা আন্তর্জাতিক মাধ্যম একটা ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের দায়ে বন্ধ হয়ে যাবে? তাছাড়া সম্প্রতি একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে! আর ব্যাঙ্গচিত্র প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ,বারাক ওবামা সহ অনেক রাজনীতিবিদের বিরূদ্ধে প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়ায়! সরকার কি চায় জোর করে জনগনের মূখ বন্ধ করা হবে? এ কি সম্ভব?আঙ্গুলে ঘাঁ হলে আঙ্গুল কেটে ফেলে দিতে হবে? দেশে আইন আছে,আছে বিচার ব্যবস্থা, তাহলে কেউ ব্যাংক জালিয়াতি করলে কি সব ব্যাংক বন্ধ করে দিতে হবে? পাকিস্থানে ফেইস বুক আবার চালু করা হয়েছে। সরকার কি শেষ পর্যন্ত দেশে কম্পিউটার আমদানি বন্ধ করে দেবে?।কেননা সাম্প্রতিক কালে সরকারের অপকর্মের কারনে জনগন তাদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করছিল এই ফেইস বুকে তাতে সরকার মনে করছে যে ফেইস বুক সরকার বিরোধীতা কে শক্তিশাশী করছে। বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন রাজনীতিকে আওয়ামী লীগ প্রচন্ড ভয় পায় ! জনগনের উপর যখন কোন সরকার আস্থা হারিয়ে ফেলে তখন সরকারের চেহারা এমনই হয়!সরকারের গনতান্ত্রীক চেহারা পাল্টে স্বৈরতান্ত্রীক চেহারার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন এনালগ বাংলাদেশে রুপ নিয়েছে!আর জনগণের উপর আস্থা থাকেই বা কি করে তারা যে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়নি! দেশপ্রেমের অগ্নীপরীক্ষায় উত্তীর্ণ জীবন্ত কিংবদন্তী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটা সতর্কতার কর্মসূচীতে বেসামাল হয়ে পড়েছে সরকার ,কারন তাদের মনে সাহস নেই ,আর সাহস থাকেই বা কি করে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হলেই না বিএন পি'র মত দেশ পরিচালনা করতে পারতো।বাংলাদেশ সরকার নিজ দেশের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it
Blogs